
প্রিয় টিউন প্রতি ক্লিকে নতুন কিছু যাদুর বাক্সে
কম্পিউটারের পরিভাষায় ভাইটাল ইনফরমেশন রিসোর্সেস আন্ডার সিজ (Vital Information Resources Under Seize) এর সংক্ষিপ্ত রুপ হলো ভাইরাস (VIRUS)। ভাইরাসের নামকরণ করেন প্রখ্যাত গবেষক ‘ফ্রেড কোহেন’। কম্পিউটার ব্যবহার করেছেন কিন্তু ভাইরাসের সম্মূখীন হননি এমন কাউকে পাওয়া সত্যিই ভার আর যারা
কম্পিউটার ব্যবহার করেন তাদের সকলেই এ ব্যাপারে আতঙ্কিত থাকেন। প্রায় সব কম্পিউটার ব্যবহারকারীই কোন না কোন ভাবে ভাইরাসের দ্বারা কম বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। কম্পিউটারের ভাইরাস জীবন্ত কোন অর্গানিজম নয়, এটা চিরন্তন সত্য কথা। ভাইরাস এমন এক ধরনের প্রোগ্রাম (কম্পিউটারের মাধ্যমে কোন সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় নিদের্শমালার সমষ্টিকে প্রোগ্রাম বলা হয়, কিন্তু সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে যদি সমস্যা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিদের্শমালা প্রদান পূর্বক প্রোগ্রাম তৈরী করা হয় তখন তাকেই আমরা ভাইরাস বলি) যা কম্পিউটারে জীবন্ত প্রাণীর মতই আচরণ করে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভাইরাসের কারণে যেমন জীবের মৃত্যু হতে পারে, তেমনি আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাসের আক্রমনে অকেজো হয়ে যাওয়াটাও স্বাভাবিক। তবে কম্পিউটারের এই ভাইরাস মানুষের দ্বারাই তৈরি প্রোগ্রাম যা আপনার অনুমতি বা ধারণা ছাড়াই স্বংয়ক্রিয়ভাবে এক্সিকিউট হয়, সংক্রমন ও বংশবৃদ্ধি করে। কম্পিউটার হ্যাকারা প্রতিনিয়ত নতূন-নতূন ভাইরাস তৈরী করছে। ভাইরাসের প্রথম ভয়ংকর দিকটি হচ্ছে এরা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অগোচরে নিজেরা নিজেদের কপি তৈরি করতে পারে। শুধু তাই নয়, এরা অন্য একটি প্রোগ্রামের সাথে সংযুক্ত হয়ে নিজেদের লুকিয়ে রাখতে পারে। কম্পিউটারে বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে। সাধারণতঃ পেনড্রাইভ, সিডি, লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা ল্যান, ইন্টারনেটে ফাইল সেয়ারিং করার সময়ে, ইন্টারনেট থেকেঃ যখন আপনি ভাইরাস আছে, এমন কোনো সাইটে প্রবেশ করবেন বা অন্য যেকোনো এক্সটারনাল ডিভাইসের মাধ্যমেঃ ভাইরাস আছে এমন ডিভাইস কম্পিউটারে কানেকশান পাওয়ার পরে যখন আপনি তা ওপেন করবেন তখন অথবা কোন একটি সফ্টওয়্যারের অংশ হিসেবে কম্পিউটারে প্রবেশ করে তথ্য মুছে ফেলা থেকে শুরু করে, অপারেটিং সিস্টেম অকেজো করে দেওয়া বা মুছে ফেলা এবং অন্যান্য সিস্টেমে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। নির্দিষ্ট কোন লক্ষণ দ্বারা কম্পিউটার ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব নয়। লক্ষণসমূহ ভাইরাস প্রোগ্রাম ডিজাইনার (হ্যাকার) যে ভাবে চেয়েথাকেন সেভাবেই প্রকাশ পায়। অনেক ভাইরাস কোন লক্ষণ প্রকাশ করা ছাড়াই ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকে কম্পিউটারের ক্ষতি সাধন করে অথবা তথ্য পাচার করে। তবে কম্পিউটার অস্বাভাবিক আচরণ করলেই ভাইরাস আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা যায়। বিভিন্ন রকমের ভাইরাস আছে। একেকটা ভাইরাসের আক্রমণ কৌশল একেক রকমের। লক্ষণসমূহের মধ্যে কয়েকটি হলো- কম্পিউটার স্লো হয়ে যাওয়া তথা কোন প্রোগ্রাম লোড/রান হতে অস্বাভাবিক সময় নেয়া; স্টোরেজ ডিক্সের ভলিউমের নাম পরিবর্তন হতে পারে; হার্ডডিক্সে ব্যাড সেক্টর দেখা দিতে পারে; ডট ইএক্সই (.exe) ফাইলের আকার পরিবর্তন হতে পারে; সিস্টেম এর সময় ও তারিখ এর অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন হতে পারে; কোন কারণ ছাড়াই মেমোরী থেকে ফাইল ডিলিট হয়ে যেতে পারে; সিস্টেম এর সেটিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন হতে পারে; ডিসপ্লে রেজুলেশন তথা সেটিং পরিবর্তন হতে পারে; ফোল্ডার অপশন হাইড হয়ে যেতে পারে; ফ্রি মেমোরী স্পেস পরিমানে কম দেখাতে পারে; হার্ডডিক্সের পার্টিশন নষ্ট হয়ে ডাটা হারিয়ে যেতে পারে; কম্পিউটারের বায়োস এর ডেটা মুছে ফেলে কম্পিউটার অচল করে দিতে পারে; হঠাৎ বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত ইরর মেসেজ দিতে পারে; প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সফ্টওয়্যার ইন্সটল হতে সময় নেবে অথবা হবেনা; যে কোন সময় কম্পিউটারকে হ্যাং করে দেয় অথবা হঠাৎ রিস্টার্ট করে দেয়, ফলে আনসেভ যে কোন ডকোমেন্ট হারিয়ে যায়। এছাড়া ও বিভিন্ন ধরনের অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। এসব লক্ষণ প্রকাশ পেলে ধরে নেয়া যায় কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত।
বর্তমানে বেশিরভাগ কম্পিউটার ব্যবহারহারকারীই তাদের কম্পিউটারে এন্টিভাইরাস ব্যবহার করে থাকেন। ভাইরাসকে প্রতিরোধ করা ও ধ্বংস করার জন্য কোম্পানিগুলোও বসে নেই। তারা বের করে চলছে একের পর এক অ্যান্টিভাইরাস, সেগুলির আবার আপডেটেড ভার্সন। দুটি সাধারণ পদ্ধতিতে এণ্টিভাইরাস সফটওয়্যারগুলো ভাইরাস সনাক্ত করে থাকে। প্রথম ও সর্বাধিক প্রচলিত পদ্ধতিটি হল ভাইরাস সিগনেচার। এই সনাক্তকরণ পদ্ধতির প্রধান সমস্যা হল ব্যবহারকারীরা কেবল সেসব ভাইরাস থেকেই রক্ষা পান যেগুলো পুর্বোক্ত ভাইরাস সঙ্গার আপডেটে উল্লিখিত থাকে। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হল হিউরিস্টিক এলগরিদম যা ভাইরাসের সাধারণ সঙ্গা থেকে সনাক্ত করা হয়। এই পদ্ধতিতে এণ্টি-ভাইরাস সিগনেচার ফার্ম কর্তৃক সঙ্গায়িত ভাইরাস না হলেও তা সনাক্ত করতে পারে। অনেকেই মনে করেন কম্পিউটারে এন্টিভাইরাস ইন্সটল করলেই তা ভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য যথেষ্ঠ, কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। এন্টিভাইরাস ব্যবহারের পরও অনেক সময় কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। কোনো এন্টিভাইরাসই সব ভাইরাস চিহ্নিত করতে সক্ষম নয়, তা যত ভাল এন্টিভাইরাস হোক না কেন। কারণ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০০টি নতূন ভাইরাস যুক্ত হচ্ছে সাইবার জগতে। তাই বলে একটা কম্পিউটারে একাধীক এন্টিভাইরাস ব্যবহার করাটাও বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা। কারন একাধিক এন্টিভাইরাস কম্পিউটারে ইনস্টল করলে কম্পিউটারের পারফর্মেন্স কমে যাবে। এজন্য বিকল্প একটা ব্যবস্থা হতে পারে পোর্টেবল এন্টিভাইরাস যা ইউএসবি ড্রাইভ থেকে রান হবে। এধরনের কিছু এন্টিভাইরাস হল ClamWin Portable, IRClean, Multi Virus Cleaner, Rootkit Revealer. অন্যদিকে, আপনার কম্পিউটারে সন্দেহজনক কোন ফাইল চোখে পড়লে তা সাথে-সাথে ভাইরাসটোটাল ডট কম (http://www.virustotal.com) সাইটে গিয়ে চেক করে নিতে পারেন। এই সাইটে বর্তমানে জনপ্রিয় প্রায় ৪৫টা এন্টিভাইরাস দিয়ে আপনার দেওয়া ফাইলটি চেক করে চেককৃত প্রতিটি এন্টিভাইরাসের নাম, ভার্সান, শেষ আপডেট ও রেজাল্ট অপসনে কোন এন্টিভাইরাস আপনার দেওয়া ফাইলটিকে কিভাবে দেখছে তা দেখাবে। লিস্ট দেখে আপনি বুঝতে পারবেন ফাইলটি ভাইরাস কিনা এবং ভাইরাস হলে কোন-কোন এন্টিভাইরাস ব্যবহার করে তা প্রতিহত করতে পারবেন। তবে প্রচলিত এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম দ্বারা ভাইরাস মুক্ত করা না গেলে ফাইল ডিলিট করা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। অনেক সময় ডিক্স ফরমেট ও নতূন করে অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা লাগতে পারে।
আমার একটা সুন্দর ব্লগ আছে , আপনাদের নিমন্ত্রণ রইলো। আমার ব্লগে কনটেন্ট WRITING এর জন্য এখানে যোগাযোগ করুন ।
অনেক সুন্দর পোস্ট! আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
কাজের পোস্ট তবে লেখা তা সাজানো হয় নাই . দেখতে কেমন খাপসারা লাগতাসে .
খুব সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ।
anek dhnyobad
সুন্দর একখান পোস্ট | ধন্যবাদ|
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ
আসা করি আরো সুন্দর ভাবে লিখবেন
ধন্যবাদ ভালো টিউন
অনেক ধন্যবাদ সুন্দর পোষ্ট টির জন্য।
জতিল পোস্ট।