
প্রিয় টিউন প্রতি ক্লিকে নতুন কিছু যাদুর বাক্সে
আশা করি মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে সকলেই ভাল আছেন এবং আপনার আশে পাশের সবাইকে ভাল রেখেছেন। নিজে ভাল থাকবেন ও আপনার পাশের মানুষটিকেও ভাল রাখবেন।
গত ২০শে জুন টিউনারপেজ থেকে একটি উদ্যোগের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছিল। উদ্যোগটি ছিল “মানবিক দৃষ্টি আকর্ষন : আমরা দাঁড়িয়েছি ছিন্নমূল শিশুদের পাশে” । যেখানে আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদেরই কিছু ছিন্নমূল শিশু ভাইবোনদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া। আমরা বলেছিলাম “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চল রে” শুরুতে ভেবেছিলাম আমরা যদি অন্ততঃ ৫টি শিশুকেও সাহায্য করতে পারি, সেটিই হবে আমাদের সফলতা। অবশেষে আমরা আমাদের উদ্যোগটির শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। কিছু অস্বাভাবিক হৃদয়বান মানুষ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর ফলেই হয়ত আজ ছোট্ট পরিসরে হলেও আমরা সফল হতে পরেছি। এ সফলতা আসলে কারো একার নয়, এটি আমাদের সবার সফলতা। মূলতঃ এটি আমাদের দায়িত্ব। কর্মসূচীটি ঘোষণার পর থেকেই আমাদের উদ্যোগটি সফল করার জন্য অনেকই অনেক রকম ভাবে সাহায্যো সহযোগিতা করেছেন। আমাদের পোস্ট টি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন ৫৬৮ জন এবং অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছেন। কেউ আবার এগিয়ে এসেছেন পরিশ্রম দিয়ে, কেউ আবার মানসিক ভাবে আমাদের মজবুত করেছেন। আসলে সকল কিছু সফল হয়েছে আপনাদের একান্ত সাহায্য ও সহযোগিতায়। যার কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।
অবশেষে আমরা সফল হয়েছি ছিন্নমূল শিশুর মুখে হাসি ফুটাতে। আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল সকাল ১০টায়। আমাদের টিম মেম্বার ছিলেন- ইখতিয়ার, মহা প্লাবন, তনু, মহসিনা, ফাতেমা উদ্দিন, জিয়া, খৈয়াম, রাজু, ইশান, মনির, ফাহিম। যাত্রা শুরু করার ঘণ্টা খানেক পড়ে খিলগাঁও রেইল গেট বস্তির ধারে আমরা প্রথমে জায়গা বিশ্লেষণ করি । তারপরে কাপড় নিয়ে নিরাপদ স্থানে রাখি। শিশুদের লাইনের মাঝে রেখে বিতরণ করা শুরু করি। সেখানে প্রথম দিকেই ছিল ১৫০-১৮০ শিশু। কিন্তু পড়ে সেখানে জমা হয় যায় অসহায় ২০০ থেকে ৩০০ শিশু। কিন্তু আমাদের সীমিত কাপড় থাকা সত্তেও কাজটি শুরু করা হয়। সব কিছু সহজ ভাবে চলতে থাকলেও শেষের দিকে আমাদের সকল সদস্যদের কাজটি সামাল দিতে কিছু বেগ পোহাতে হয়েছিল। সেখানে বড় এবং শিশু মিলিয়ে প্রায় ৪০০ লোকজন জড় হয়ে গিয়েছিল যার ফলে শেষের দিকে ছিন্নমূলের শিশুদের সাথে থাকা লোকেরা নিজেদের মাঝে ঝাঁপা ঝাঁপি করা শুরু করার কারনে একটু ছন্ন ছাড়া হয়ে যায় আমাদের টিম । এবং তারই মধ্যে আমাদের দু’জন সদস্য সামান্য আচঁড়ের সম্মুখীন হয়। সবার পক্ষ থেকে তাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

এভাবেই তারা শত আশা নিয়ে আমাদের পথে চেয়ে ছিল

আজ তাদের আনন্দের দিন।

প্রথম শিশুটিকে কাপড় পরিয়ে দিচ্ছেন মহা প্লাবন এবং ফাতিমা উদ্দিন।

ইখতিয়ার এবং অন্য সদ্যরা লাইন নিয়ন্ত্রণ করছে।





মহা প্লাবন এবং ফাতিমা উদ্দিন কাপড় বন্টনে ব্যস্ত।


কাপড় দেয়ার পর তার হাতে মার্ক দিতে হয়।


প্লাবন মার্ক করার কাজে ব্যস্ত।

শিশুটির সাথে কথা বলছেন টিম মেম্বার তনু এবং ফাতেমা


সবাইকে শৃঙ্খলা সাথে লাইনে নিয়ন্ত্রণ করছেন তনু, প্লাবন, ইখতিয়ার

এই শিশুটির ২টি হাত নেই। সে পঙ্গু হয়েও জীবনের লড়াইয়ে টিকে আছে।

কাপর বন্টন করছেন মহা প্লাবন এবং তনু

নতুন জামা পড়ে শিশুটি দাড়িয়ে আছে। সে কি জানে তার এ দিনটি তার ভাগ্যে ছিল?

কাপড় বন্টন করার পূর্ব মূহুর্তে আমাদের সদস্যরা।





শিশুদের কাপর বিলি করছেন আমাদের টিম মেম্বার হাতে ট্যাগ করে দিচ্ছেন।




চোখে তাদের হাজার স্বপ্ন। কে বা কারা জানি অদের কে ঈদের এক গুচ্ছ আনন্দ দিতে এসেছে। তারা জানে না আমরা কারা, তারা জানে না আমরা কেনো তাদেরকে সাহায্য করছি। হয়ত তাদের বিবেক এক সময়ে নাড়া দিবে আর বলবে “হ্যাঁ মানুষ ই মানুষের জন্য এগিয়ে আসে”

এ সেই দু’জন সদস্য যারা সামান্য আচঁড়ের সম্মুখীন হয়েছে। রাজু এবং ইশান




আমাদের টিম মেম্বারদের ছবি

এত ব্যস্ততার মাঝেও তারা নারী হয়ে আমাদের সঙ্গিনী হয়েছেন। এটা অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। ফাতিমা, মহসিনা এবং তনু

বিশেষ ধন্যবাদ এই ২জন ব্যক্তিকে, যারা একে অপরের সঙ্গী এবং যারা এই উদ্যেগটি সফল করেছেন সুন্দর ও সুস্থ ভাবে। মহা প্লাবন এবং ইখতিয়ার


অবশেষে আমাদের টিম মেম্বারদের জয়ের হাসি। যা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। এভাবেই তরুণ সমাজরা যদি তাদের তারুন্যকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসে- আমাদের দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, বিবেকের তাড়নায়, তাহলে হয় আমাদের দেশটি আরো অনেক বেশী সুন্দর হত, থাকত শৃঙ্খলা। তোমরা সবাই পেরেছ কয়েকটি শিশুর মুখের হাসি জয় করতে। তোমরা আমাদের আগামী দিনের উদাহরণ হয়ে থাকবে টিউনারপেজের ভুবনে। তোমাদের সবাইকে অনুসরণ করে দেশের টানে আরো হাজার হাজার তরুণ সমাজ এগিয়ে আসুক এই কামনায় এবারে মত আমাদের আয়োজন শেষ করছি। ভাল থাকুন এবং সুস্থ থাকুন। আল্লাহ হাফেজ।


ধন্যবাদ টিউনারপেজকে… এই রকম আয়োজন কয়জনই বা করে… এরকম করেই একটু একটু আনন্দ ছড়িয়ে দিতে দিতে একসময় দেখা যাবে বিরাট আনন্দ জমে গেছে… বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে এগিয়ে আসে তাহলে কত মানুষ, কত অসহায় শিশুর মুখে যে হাসি ফুটবে তার হিসেব নেই… হোক না সেটা ক্ষণিকের জন্য…
অনেক সুন্দর একটি উদ্যোগ।
আজ টিউনারপেজ প্রমাণ করলো যে তারা কেনো আর সব বাংলা ব্লগ/টেকনোলজি সাইট থেকে আলাদা !
তাদের সাহসী যোদ্ধারা প্রমাণ করলো কেনো তারা মহান !
তারা আমাদের মতো অকর্মণ্য লোকেদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো যে চাইলেই আমরাও সাহায্য করতে পারি, কিন্তু আমরা কেও সাহায্য করতে চাই না !
আশা করছি আজকের পর থেকে এই “সাহায্য করতে না চাওয়া”-র রোগ থেকে আমরা মুক্ত হবো, আমরাও টিউনারপেজের মতো সবাইকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবো !
সহমত । ঠিক!!!!! আমার মনের কথাটাই বলেছো রাসেল ।
আমিও একমত আপনার সাথে
হ্যাঁ
আপনাদেরকে সকল কে ধন্যবাদ।
টিউনার পেজ এগিয়ে জাও সত্যের পথে অবিরাম
অভিনন্দন
খুব এ ভালো লাগলো দেখে…! ধন্যবাদ এরকম একটি উদ্যোগ সফল করার জন্য…!
অসাধারন উদ্যোগ। আমার খুব ভাল লাগছে…
oshadharon ও কল্পনীয়, অভাবনীয় আয়োজন। আপনারা আসলেই মানুষ সত্যি কারের মানুষ। বাংলা ব্লগের ইতিহাসে এমন প্রথম হয়েছে। সব গুলো ব্লগ যদি এভাবে এগিয়ে আসত তাহলে কথাই ছিল না। দুঃখের কথা হলেও সত্যি অনেক ব্লগ এ এই পোস্ট টি করলে তারা ডিলিট করে দিচ্ছে। অদের কি মানবিকতা বলতে কিছুই নাই?
সত্যি অসাধারণ একটা কাজের উদ্যোগ । tunerpage কে মোবারক বাদ।
মোবারক বাদ কেন? হবে মোবারকবাদ
অসাধারণ একটা কাজের উদ্যোগ ছিলো একটা। ধন্যবাদ সকলকে।
আসলেই অসাধারণ। হতবিহবল হয়ে পড়লাম। আমরা যেনো আরেক এভারেস্ট জয় করে ফেললাম। টিমের সকল মেম্বারদের ধন্যবাদ এভাবে প্রাণখুলে কাজ করবার জন্য।
আপনেও অসাধারণ।
আপনারা সফলভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছেন দেখে আমার যে কি খুশি লাগছে, তা বলে বুঝানো সম্ভব না । আমার খুব ইচ্ছে ছিল আপনাদের সাথে যোগ দেই । ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ফোনে কাউকে পাই নাই । কোন সমস্যা নেই, আপনারা সফলভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছেন এতেই আমি অনেক খুশি । আমাদের সেই ভাইবোনদের ঈদ মনে হয় ভালই কেটেছে ।
আসলেই অনেক ভাল লাগল আপনাদের এই উদ্যোগ কে।অনেক মানুষের মুখে হাঁসি এনে দিল টিউনারপেজ।ধন্যবাদ সবাই কে।
এই উদ্যোগের সাথে জড়িত সকলকের অবদান অনস্বীকায্ ।
স্যালুট জানাই তোমাকে ‘টিউনারপেজ’ ।
সত্যি আপনারা প্রমান করেছেন আমরা চাইলেই আসলে অনেককিছু বদলাতে পারি . আপনাদের সবাইকে প্রনাম আমার .